আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড প্রতিবেশি নয়, তবে দুটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে তাই বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কা। যে কারণে এ ম্যাচ ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আটলান্টা পুলিশ। আটলান্টা স্টেডিয়ামেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হবে বুধবার দিবাগত রাত ১টায়। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে চায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার লড়াই অব্যহত রাখতে মরিয়া আর্জেন্টিনাও আটলান্টা পুলিশ দুই দেশের মধ্যে অতীতের উত্তেজনার বিষয়ে সচেতন। ১৯৮২ সালে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ডস যুদ্ধ করেছিল—৭৪ দিনের সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ যোদ্ধা এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই যুদ্ধের মূলে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ।
বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার
যুদ্ধের চার দশকের বেশি সময় কেটে গেলেও দুই দলের সমর্থকদের সম্ভাব্য সংঘর্ষ কিংবা কোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে আটলান্টা শহরজুড়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে পুলিশ। আটলান্টা পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, "আটলান্টা আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বাড়তি সংখ্যক বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে। এ কারণে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ শহরজুড়ে জননিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অতিরিক্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল, বিনোদন এলাকা ও জনবহুল স্থানে কৌশলগতভাবে তারা নিয়োজিত থাকবে, যাতে সবাই নিরাপদ ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সক্রিয় পদক্ষেপ জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপদে এই ঐতিহাসিক ইভেন্ট উপভোগ নিশ্চিত করা।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে "হ্যান্ড অব গড" গোল করে আর্জেন্টিনাকে জয়ের পথে নিয়ে যান দিয়েগো মারাদোনা। পরে করেন আরও এক গোল যেটিকে বলা হয় শতাব্দির সেরা গোল। পরে এই ম্যাচ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মারাদোনা বলেছেন, এটা ছিল ফরল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ।
সেই ম্যাচের পর এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এবার আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।