দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে হাতের দুই উইকেটে কোনো রানই যোগ করতে পারল না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে আবারও একশর নিচে গুটিয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাকাই টেস্টে মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি এবার শেষ হয়েছে ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ রানেই। নিজেদের একমাত্র ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করে ২১০ রান। এর চেয়ে কম রান নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয় আছে কেবল তিনটি। উইকেটে বোলারদের খুব বেশি বাড়তি সুবিধা ছিল না। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তারা যেভাবে আউট হয়েছেন, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে ইনিংস ব্যবধানে হার, এবার ৯৫ রানে গুটিয়ে শান্তর দল
চা বিরতির পর প্রথম বলে স্লিপে ধরা পড়েন তাসকিন আহমেদ। ১১ বলে এক ছয় ৮ রান করেন তিনি।
এক বল পর তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিচেল স্টার্কের হাতে ধরা পড়েন শরিফুল ইসলাম। ২ বলে তিনি ফেরেন শূন্য রানে।

সঙ্গীর অভাবে ৮০ বলে তিন চারে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম।
ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩১ রান শান্তর। বাকি ৯ জন দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি।
ডারউইনে নাকানিচুবানি খাওয়ার পর ঠিক এমন একটি জয়ই চাইছিল অস্ট্রেলিয়া। তবু ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী ডেরায় গিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র করাও কম অর্জন নয়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টের জয়টা বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্মৃতিতে সবসময় থেকে যাবে।
ডারউইন টেস্টে প্রতিটা সেশনেই আধিপত্য করে বাংলাদেশ। ঠিক এর উল্টো চিত্র ম্যাকাইয়ে। সফরকারীদের প্রতিটা সেশনই কেটেছে হতাশায়।
৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে রোববার দ্বিতীয় দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১০ রানে। লিড নেয় ১৪৬ রানের।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। টেস্টে দেশের বাইরে কোনো ইনিংসে বাংলাদেশের কারো সেরা বোলিং এটাই। তিনি পেছনে ফেলেছেন হারারেতে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়া তাইজুলকে।
১৯৯৩ সালের পর সফরকারী কোনো বোলারের এটাই অস্ট্রেলিয়ায় সেরা বোলিং। এই টেস্টে বাংলাদেশের অর্জন বলতে শরিফুলের এই দুর্দান্ত বোলিংই।

৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। ৩২ রানে অপরাজিত থেকে যান নাথান লায়ন।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতে মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। টানা দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক আউট হন। পরে প্যাট কামিন্সের বলে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসানও।
দ্বিতীয় সেশনে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৩১), লিটন দাস (০), মেহেদি হাসান মিরাজ (১), হাসান মাহমুদ (২) ও তাইজুল ইসলাম (৭)।
তাইজুলকে বোল্ড করেন মিচেল স্টার্ক। ম্যাচে এটি তার দশম শিকার। টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার ১০ উইকেট পেলেন স্টার্ক।
পাঁচ সেশনের একটু বেশি সময়ে শেষ হলো ম্যাকাইয়ের অভিষেক টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ায় এর চেয়ে কম সময় স্থায়ী হয়েছে কেবল একটি টেস্ট। ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে কম সময় স্থায়ী কেবল তিনটি টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৬৪
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: (আগের দিন) ৫২.৩ ওভারে ২১০ (গ্রিন ৬৭, লায়ন ৩২*, হেইজেলউড ৬; তাসকিন ১২-১-৫৮-১, হাসান ১৪-৩-৬৭-০, শরিফুল ১৫-৩-৪৮-৭, তাইজুল ৯.৩-১-১৭-১, মিরাজ ২-১-৪-১)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ (তানজিদ ৯, সাদমান ১, মুমিনুল ০, শান্ত ৩১, মুশফিক ২৯*, লিটন ০, মিরাজ ১, হাসান ২, তাইজুল ৭, তাসকিন ৮, শরিফুল ০; স্টার্ক ১০-৩-৩৯-৪, হেইজেলউড ৭-১-১৬-০, কামিন্স ১০-৪-১০-৩, লায়ন ১১.৩-৪-২৫-৩)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ ১-১ সমতায়
ম্যাচ সেরা: মিচেল স্টার্ক
সিরিজ সেরা: মিচেল স্টার্ক