ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা?

Total Views : 6
Zoom In Zoom Out Read Later Print

টিন সার্টিফিকেট থাকলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা আর আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে রিটার্ন দাখিল করেও করের পরিমাণ শূন্য হতে পারে। সাধারণভাবে এটিই ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ হিসেবে পরিচিত। ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি করদাতাদের ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন করবর্ষের ই-রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা। তবে ‘জিরো রিটার্ন’ মানে রিটার্নের সব ঘরে শূন্য বসিয়ে দেওয়া নয়। আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্যই দিতে হবে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তীতে জটিলতায় পড়তে হতে পারে। ১. এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন প্রথমে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা থাকলে টিন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ ডিজিটের টিন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডিতে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিন ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে। ২. ‘রিটার্ন সাবমিশন’ নির্বাচন করুন লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে অ্যাসেসমেন্টের তথ্য এবং আয়ের বিভিন্ন খাত পূরণের সুযোগ আসবে। সব তথ্য একসঙ্গে পূরণ করতে না পারলে ধাপে ধাপে তথ্য দিয়ে সেভ করে রাখা যায়। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য পূরণ করা সম্ভব। ৩. আয় না থাকলেও সব ঘর ফাঁকা রাখবেন না এ পর্যায়েই অনেক করদাতা ভুল করেন। আয় নেই বা করযোগ্য আয় নেই—এমন পরিস্থিতিতে সব ঘর ফাঁকা রেখে দেওয়া ঠিক নয়। নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জিরো ট্যাক্স মানে সবকিছু শূন্য নয়। আপনার ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকলে, কোনো সম্পদ থাকলে বা বাস্তবে কোনো ব্যয় হয়ে থাকলে তা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ৪. ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের করমুক্ত সীমা জানুন ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মা-বাবা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর বিধান রয়েছে। তবে মা-বাবা দুজনই করদাতা হলে এ সুবিধা একজনই পাবেন। তবে আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও রিটার্নে সম্পদ, ব্যয় ও দায়ের তথ্য শূন্য দেখানো যাবে না। ৫. ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশ যাচাই করুন সব তথ্য দেওয়ার পর রিটার্নের হিসাব অনুযায়ী সিস্টেম প্রদেয় করের পরিমাণ দেখাবে। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রদেয় করের পরিমাণ শূন্য আসে, তাহলে সেটিই জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি। কোনো উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর পরিশোধ করা থাকলে সেটিও সঠিকভাবে ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে উল্লেখ করতে হবে। ৬. সাবমিটের আগে পুরো রিটার্ন দেখে নিন সব তথ্য পূরণ করার পর ‘রিটার্ন ভিউ’ থেকে পুরো রিটার্নটি দেখে নিতে হবে। বিশেষ করে নিজের নাম, টিন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং করের হিসাব ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগেই সংশোধন করুন। ৭. সাবমিট করলেই রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন সব তথ্য সঠিক থাকলে রিটার্ন সাবমিট করুন। এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয় এবং অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ট্যাক্স সার্টিফিকেটও তৈরি হয়। পরে ট্যাক্স রেকর্ড মেনু থেকে এসব নথি দেখা, সংরক্ষণ ও প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করা যায়। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে প্রণোদনার সুযোগ ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। এনবিআর জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করলেই নিশ্চিতভাবে ৫ শতাংশ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। প্রণোদনা ব্যক্তির করযোগ্য আয় ও প্রদেয় করের ওপর নির্ভর করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জিরো ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সময় আয়, সম্পদ, ব্যয় বা দায় ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্য দেখাবেন না। আপনার আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও রিটার্নে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে।


কারণ রিটার্নে শুধু আয় নয়, বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ করার বিষয় রয়েছে।


অর্থাৎ, জিরো ট্যাক্স রিটার্নের সঠিক পদ্ধতি হলো—প্রকৃত তথ্য দিয়ে ই-রিটার্ন পূরণ করা, হিসাব শেষে প্রদেয় কর শূন্য আসা নিশ্চিত করা এবং এরপর অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করা।

See More

Latest Photos