নেটওয়ার্ক ঠিক করা থেকে ব্যাটারি বাঁচানো , এয়ারপ্লেন মোডের যত ব্যবহার

Total Views : 36
Zoom In Zoom Out Read Later Print

স্মার্টফোনের ‘এয়ারপ্লেন মোড’ নামটি শুনলে অনেকেরই মনে হয়, উড়োজাহাজে ওঠার সময়ই শুধু এই ফিচারটি প্রয়োজন। তবে বিমানের বাইরেও দৈনন্দিন জীবনে এর বেশ কিছু ব্যবহার রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য বেতার সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ব্যাটারি সাশ্রয়, চার্জ দেওয়ার সময় বাড়তি শক্তি কম খরচ এবং কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেও এয়ারপ্লেন মোড কাজে আসতে পারে এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে কী হয়? এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে স্মার্টফোনের বিভিন্ন বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডেটা, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কল করা বা গ্রহণ, এসএমএস পাঠানো এবং মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যায় না। তবে আধুনিক অনেক স্মার্টফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেও প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আবার চালু করা যায়। জিপিএসের ক্ষেত্রে বিষয়টি ডিভাইসভেদে ভিন্ন হতে পারে। জিপিএস মূলত সিগন্যাল গ্রহণ করে, পাঠায় না। ফলে কিছু ফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকলেও জিপিএস কাজ করতে পারে।

বিমানে কেন এ মোড ব্যবহার করা হয়?

উড়োজাহাজে যাত্রার সময় ফোনের বেতার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করাই এয়ারপ্লেন মোডের প্রধান উদ্দেশ্য। ফোন সক্রিয় থাকলে এটি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে এয়ারলাইন ও ক্রুদের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখতে বলা হয়। আধুনিক অনেক উড়োজাহাজে ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকায় এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেও অনুমোদিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া যায়।

দুর্বল নেটওয়ার্কে ব্যাটারি সাশ্রয়

গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন জায়গায় ফোনকে বারবার সিগন্যাল খুঁজতে হয়। এতে ব্যাটারি তুলনামূলক দ্রুত শেষ হতে পারে। এ সময় মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান বন্ধ রাখা যায়। এতে ব্যাটারির চার্জ কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

চার্জ দেওয়ার সময়ও উপকারী

ফোন চার্জ দেওয়ার সময় এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে নেটওয়ার্ক-নির্ভর কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, সিঙ্ক ও নোটিফিকেশনের কারণে হওয়া বাড়তি শক্তি খরচ কমতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফোন তুলনামূলক দ্রুত চার্জ হতে পারে। তবে এতে চার্জিংয়ের গতি খুব বেশি বাড়ে না।

প্রয়োজনের সময় ‘ডিজিটাল বিরতি’

পড়াশোনা, গুরুত্বপূর্ণ কাজ, মিটিং কিংবা বিশ্রামের সময় ফোনের অনলাইন সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চালু থাকলে অনলাইনভিত্তিক কল, বার্তা ও অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে। ফলে কিছু সময়ের জন্য ডিজিটাল জগৎ থেকে নিজেকে দূরে রাখা সহজ হয়।

নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধানে

কখনো ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ না করলে এয়ারপ্লেন মোড কয়েক সেকেন্ড চালু রেখে আবার বন্ধ করলে সংযোগ ফিরে আসতে পারে। এতে ফোনের বেতার সংযোগগুলো নতুন করে নেটওয়ার্ক খোঁজার সুযোগ পায়। তবে এটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান নয়।

রোমিং খরচ এড়াতে

বিদেশ ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মোবাইল ডেটা ব্যবহার ও রোমিং চার্জ এড়াতেও এয়ারপ্লেন মোড কার্যকর। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে এই মোড ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরে প্রয়োজনে এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেই ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আলাদাভাবে সক্রিয় করা যায়। ফলে প্রয়োজনীয় সংযোগ ব্যবহার করেও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা সম্ভব।

See More

Latest Photos