বর্তমান বাজারে মাঝেমাঝেই ভেজাল বা নকল ডিম পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাসায়নিক, রেজিন বা প্লাস্টিক উপাদান দিয়ে তৈরি এসব কৃত্রিম ডিম দেখতে অবিকল আসল ডিমের মতো মনে হলেও এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর পাশাপাশি, অনুপযুক্ত সংরক্ষণ বা নানা কারণে আসল ডিমও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বাজার থেকে কি আসল ডিম কিনছেন? ঘরেই পরখ করুন গুণগত মান
নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নষ্ট বা বাসি ডিম খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, পেটের মারাত্মক সংক্রমণ এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই ডিম কেনার সময় এর সতেজতা ও সঠিক মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও ল্যাব টেস্টই ডিম আসল না নকল তা নিশ্চিত করার একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায়, তবুও ঘরে বসে খুব সহজেই এর মান ও সতেজতা যাচাই করার কিছু সহজ পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
১. ঝাঁকিয়ে পরীক্ষা করা: ডিমটি কানের কাছে নিয়ে আলতো করে ঝাঁকিয়ে দেখুন। তাজা ডিমে সাধারণত কোনো শব্দ হয় না এবং ভেতরের অংশ স্থির থাকে। অন্যদিকে, ডিম বাসি বা পুরোনো হলে ভেতরের তরল পদার্থ নড়ে ওঠে এবং মৃদু শব্দ শোনা যায়।
২. খোসার অবয়ব লক্ষ করা: আসল ডিমের খোসার ওপরের অংশ সাধারণত কিছুটা অমসৃণ ও দানাদার হয়। তবে কোনো ডিম যদি অস্বাভাবিক রকমের মসৃণ, চকচকে কিংবা মোমের মতো প্রলেপযুক্ত দেখায়, তবে সেটির মান নিয়ে সন্দেহ করা স্বাভাবিক। অবশ্য কেবল খোসা দেখে শতভাগ নকল নিশ্চিত করা যায় না।
৩. গন্ধ পরখ করা: নষ্ট বা পচা ডিম থেকে তীব্র ও অপ্রীতিকর গন্ধ বের হয়। অনেক সময় ডিম ভাঙার আগেই এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ টের পাওয়া যায়। যদি কোনো ডিম থেকে অস্বাভাবিক বা দুর্গন্ধ আসে, তবে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
৪. খোসার রঙ ও ঔজ্জ্বল্য: মুরগির জাতের ওপর ভিত্তি করে ডিমের খোসা সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা বা গাঢ় বাদামী হতে পারে। তাই শুধু রঙের ভিন্নতা দেখে আসল-নকল বিচার করা যায় না। তবে ডিমের খোসা যদি অতিরিক্ত মাত্রায় মসৃণ ও অস্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্যযুক্ত হয়, তবে সেটি ভালো মানের না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।