আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

Total Views : 30
Zoom In Zoom Out Read Later Print

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি ও ছয়টি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম করছে এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি।

কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও আপাতত এগোবে না।

কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত PERM নামে পরিচিত স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে দেখাতে হয়, নির্দিষ্ট পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ফলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর যেসব বিদেশি কর্মী কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর বিদ্যমান ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। 

মাইক্রোসফটকে নিয়ে ভ্যান্সের অভিযোগ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের নিয়োগনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি একদিকে হাজার হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের সুবিধা নিয়েছে।

ভ্যান্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফট গত বছর প্রায় ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ড-সংশ্লিষ্ট সুবিধা পেয়েছিল। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬ হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে মাইক্রোসফট বলেছে, গত অর্থবছরে তাদের করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অভিবাসন-সংক্রান্ত মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন কর্মীদের জন্য করা আবেদনগুলোও মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিয়ে; তাঁরা নতুন করে বিদেশ থেকে আসা কর্মী নন।

মাইক্রোসফট আরও জানিয়েছে, এইচ-১বি ভিসায় থাকা কর্মীদের সমমানের কাজ করা অন্য কর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন দেওয়া হয়।

প্রযুক্তি খাতে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসন কর্মসূচির ওপর প্রশাসনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা সন্ডারলিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে, যাতে মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।

ভ্যান্স বলেন, স্থগিতাদেশ কত দিন কার্যকর থাকবে, তা প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত পরিবর্তন আনে।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া

মাইক্রোসফট তাদের নিয়োগ ও বেতননীতির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে। অন্যদিকে, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, উইপ্রো ও ক্যাপজেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন ন্যাসকমের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নতুন স্থগিতাদেশের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু কোম্পানিগুলোর নিয়োগনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যেসব বিদেশি কর্মী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবেদনপ্রক্রিয়াতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। 

See More

Latest Photos