ইসলামে প্রবেশ নিয়ে কটাক্ষের কথা জানালেন সামান্তা শারমিন

Total Views : 23
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নিজের ইসলামে প্রবেশ ও ধর্মচর্চা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, সামাজিক চাপ বা জনপ্রিয় বক্তৃতার ওপর নির্ভর না করে মুসলিমদের নিজেদের ধর্মীয় জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইসলামি বইয়ের প্রাপ্যতা এবং ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

সামান্তা শারমিন লেখেন, আরবি ভাষা না জানা এবং আগে থেকে মাদ্রাসা বা অন্য ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কারণে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় ইসলামি জ্ঞান অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। বয়সের কারণেও এ কাজ আরও চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একটি সময়োপযোগী আলোচনা শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আলোচনাটির শুরু ও শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকায় সেটি আবার শোনা এবং অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেছেন।

নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কটাক্ষের প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিন লেখেন, ইসলামে তাঁর সচেতনভাবে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে অনেকে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ইসলাম ও ইসলাম পালনকারীদের প্রতি এমন বিদ্বেষ কেন কাজ করে, তা নিয়েও কৌতূহল প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিক চাপের কারণে জ্ঞানচর্চা কমানো উচিত নয়

পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেন, সামাজিক চাপের কারণে ইসলাম ও এর জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত বা শৈশবে পড়া ধর্মীয় বইয়ের বক্তব্যকে সরাসরি আল্লাহ ও নবী-রাসুলদের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন না করে ইসলামি জ্ঞান অর্জনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কায় ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা কিংবা দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে খাটো করে দেখা ঠিক নয়।

ইসলামি বইমেলা নিয়ে হতাশা

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইসলামি বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, এসব সীমাবদ্ধতার পেছনে শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ নানা বিষয় কাজ করে; এগুলোকে ইসলামের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

ইসলামি বইমেলায় নতুন ও মানসম্মত বই খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, প্রতি বছর মেলায় গেলেও তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বই পাননি। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকেরা ইসলাম নিয়ে ব্যাপকভাবে লিখলেও সেসব গবেষণার উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশের বইয়ের বাজারে সহজে পাওয়া যায় না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজনীতিবিদদের ইসলামি বইমেলার প্রশংসা প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিনের বক্তব্য, শুধু ইসলামপন্থী ভাবমূর্তি তৈরি বা নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার বদলে ইসলামি জ্ঞানচর্চার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করতেও তাঁদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।

ধর্ম নিয়ে মন্তব্যের আগে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন

পাশ্চাত্যধারার আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের জন্য ইসলামি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামান্তা শারমিন লেখেন, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যাংকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক—পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত কেউ কেউ কোরআন না পড়ার কথা স্বীকার করার পরও ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এ ধরনের মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে নারীর অবস্থান নিয়ে প্রচলিত কিছু মন্তব্যের উদাহরণ দেন তিনি। পোস্টের শেষে মুসলিম উম্মাহর আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পথে চলার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এনসিপির এই নেতা।

See More

Latest Photos