দীর্ঘ ৮ বছরের আন্দোলন, সেশনজট, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং বারবার প্রতিশ্রুতির পর অবশেষে রাজধানীর সাতটি প্রধান সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে নতুন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার সকালে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে। অধ্যাদেশটি জারির দিন থেকেই কার্যকর। এর ফলে নিম্নোক্ত সাতটি কলেজ এখন থেকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে:
এখন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজধানীর সাত ঐতিহ্যবাহী কলেজ , গেজেট প্রকাশ
১. ঢাকা কলেজ ২. ইডেন মহিলা কলেজ ৩. সরকারি তিতুমীর কলেজ ৪. সরকারি বাঙলা কলেজ ৫. বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ৬. সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং ৭. কবি নজরুল সরকারি কলেজ
কলেজের নাম-ঐতিহ্য-সম্পত্তি অক্ষুণ্ণ
অধ্যাদেশে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সাত কলেজের নাম, ঐতিহাসিক পরিচয়, অবকাঠামো, জমি-স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, শিক্ষক-কর্মচারীদের সার্ভিস বুক, পেনশন-প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ সব ধরনের সুবিধা-অধিকার আগের মতোই বহাল থাকবে। খসড়ায় প্রস্তাবিত ‘চারটি স্কুলে বিভাজন’ ধারণাটি চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত হিসেবে কাজ করবে। এর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— স্নাতক-স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা, সনদ প্রদান, শিল্প-একাডেমি সংযোগ, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ইত্যাদি।
শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগও থাকবে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ পর্যন্ত
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া ভবন বা উপযুক্ত স্থানে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আর্থিক কার্যক্রমের তদারকি করবে এবং প্রয়োজনে তদন্ত-পরিদর্শন করে প্রতিকারমূলক নির্দেশ দিতে পারবে।
পটভূমি : ২০১৭ সাল থেকে এই সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকায় সেশনজট, পরীক্ষা বিলম্ব, শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ ইউজিসি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করে। গত বছরের ১২ নভেম্বর অধিভুক্তি প্রত্যাহার করা হয়। অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।