অবিশ্বাস্য এক ম্যাচের সাক্ষি হলো ক্রিকেট বিশ্ব। নির্ধারিত ম্যাচের পর টাই হলো প্রথম সুপার ওভারও! রোমাঞ্চে টাইটম্বুর ম্যাচে দ্বিতীয় সুপার ওভারে একটা পর্যায়ে যখন আফগানিস্তানের দরকার চার বলে চার ছক্কা, তখন টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ আরও জমিয়ে তুললেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কিন্তু পেরে উঠলেন না শেষ পর্যন্ত। তাদের কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদোবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় শেষ ওভারে ১৩ রানের সমীকরণ একটা পর্যায়ে নেমে আসে ৩ বলে ২ রানে। হাতের মুঠোয় থাকা সমীকরণ মেলাতে পারেনি আফগানিস্তান। ওভার থেকে উঠেছে ১২ রান। ম্যাচ হয় টাই। প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। জবাবে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও তোলে ১৭ রান। প্রথম সুপার ওভারও হয় টাই! দ্বিতীয় সুপার ওভারে ডেভিড মিলার ও স্ট্রিস্টান স্টাবস তোলেন ২৩ রান। জবাবে কেশাভ মহারাজের করা ওভারের প্রথম বলে রান নিতে পারেননি মোহাম্মাদ নবি। দ্বিতীয় বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট।
আফগানিস্তান-দ. আফ্রিকা রোমাঞ্চকর লড়াই অবিশ্বাস্য! দ্বিতীয় সুপার ওভারে নিষ্পত্তি
এরপর সেই চার ছক্কার সমীকরন। শেষ বলে যখন ছক্কা লাগে তখন ওয়াইড দেন মহারাজ। চার মারলে তখন আরেকটি সুপার ওভারের সমীকরণ। কিন্তু এবার মহারাজের ইয়োর্কারে ব্যাট চালিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন গুরবাজ। অবিশ্বাস্য এক জয়ের বাধনহারা উল্লাসে মাতে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই প্রথম ‘ডাবল সুপার ওভার’ ম্যাচ।
গুরবাজই আফগানদের রেখেছিলেন জয়ের পথে। ম্যাচে এই ওপেনার খেলেন ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি।
তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২৮ বলে ৬১ করেন রায়ান রিকেলটন। ৪১ বলে ৫৯ করেন কুইন্টন ডি কক। ৪১ রানে ৩ উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি–টুয়েন্টিতে দুবার সুপার ওভারে গিয়েও জিততে পারেনি আফগানিস্তান। এবারও তাই হলো।
এই হারে সুপার এইটে ওঠা কঠিন হয়ে গেল আফগানিস্তানের জন্য। শেষ দুই ম্যাচে আরব আমিরাত ও কানাডার বিপক্ষে জিতলেও সুপার এইট অনিশ্চিত থাকবে আফগানিস্তানের জন্য। প্রথম ম্যাচে তারা হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
অন্যদিকে কানাডার বিপক্ষে জয়ে আসর শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে গেল সুপার এইটের খুব কাছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ১৮৭/৬ (মার্করাম ৫, ডি কক ৫৯, রিকেলটন ৬১, ব্রেভিস ২৩, মিলার ২০*, স্টাবস ১, ইয়ানসেন ১৬, ফারুকি ৪-০-৩২-১, মুজিব ৩-০-৩০-০, ওমারজাই ৪-০-৪১-৩, নাবি ২-০-২০-০, রাশিদ ৪-০-২৮-২, নুর ৩-০-৩৫-০)।
আফগানিস্তান: ১৯.৪ ওভারে ১৮৭ (গুরবাজ ৮৪, ইব্রাহিম ১২, গুলবাদিন ০, আটাল ০, রাসুলি ১৫, ওমারজাই ২২, নাবি ৫, রাশিদ ২০, মুজিব ০, নুর ১৫*, ফারুকি ০; এনগিডি ৪-০২৬-৩, ইয়ানসেন ৪-০-৪২-১, রাবাদা ৩.৪-০-৩৮-১, লিন্ডা ৩-০-৩৯-১, মহারাজ ৪-০-২৭-১, মার্করাম ১-০-১৪-০)।
ফল: ম্যাচ টাই,
প্রথম সুপার ওভার: টাই
দ্বিতীয় সুপার ওভার: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: লুঙ্গি এনগিডি।