ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রকাশ্যে একাত্মতা জানিয়েছে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ (প্রতিরোধের অক্ষ) নেটওয়ার্কভুক্ত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। ২৮ ফেব্রুয়ারি কথিত যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার দাবি ঘিরে অঞ্চলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে,খামেনি হত্যার প্রতিশোধে ইরানের পাশে সশস্ত্র মিত্ররা
গোষ্ঠীগুলো খামেনিকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সংগঠন সক্রিয় পদক্ষেপও নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ইরান নিজেই ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানকে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। হিজবুল্লাহ খামেনিকে তাদের ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ (হুথি) ইসরায়েল ও লোহিত সাগরগামী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।
ইরাকভিত্তিক জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক–এর অন্তর্ভুক্ত একাধিক গোষ্ঠী ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’-এর হুমকি দিয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছে: কাতাইব হিজবুল্লাহ, আসাইব আহল আল-হক, হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা ও কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা
গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে সীমিত পরিসরে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভের খবরও পাওয়া গেছে।
হামাস ও ইসলামিক জিহাদের প্রতিক্রিয়া : গাজাভিত্তিক হামাস এবং প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদ খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে।
তারা বলেছে, খামেনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তবে এ পর্যন্ত সরাসরি নতুন হামলার ঘোষণা দেয়নি সংগঠন দুটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’–এর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।