রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে সব জেলাকে পর্যায়ক্রমে: রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

Total Views : 10
Zoom In Zoom Out Read Later Print

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ৪৯টিতে রেল সংযোগ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। শুক্রবার রাতে নেত্রকোণা রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে তিনি জেলার মোহনগঞ্জ ও বারহাট্টা রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন। শুক্রবার দিনব্যাপী নেত্রকোণায় সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাটে পথসভা ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে খালিয়াজুড়ি উপজেলার রোয়াইল-নাওটানা সংযোগস্থল, বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর চিরাডুবি হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।

সফরে তার সঙ্গে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। রেলপথে যানজট কমাতে বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, ট্রেনে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইনের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নেত্রকোণাকেন্দ্রিক বিভিন্ন দাবির বিষয়েও সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব কাজ একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অতীতে রেললাইন নির্মাণ হলেও সেই অনুপাতে লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে মিটারগেজ রুটে ইঞ্জিন ও বগির সংকট রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের পাশাপাশি অকেজো ইঞ্জিন মেরামত করে চলমান সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে এসব সংগ্রহে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে।

তিনি বলেন, নেত্রকোণা রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের টয়লেট নির্মাণের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেল সংযোগ রয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাই। তবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলের সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।’

নেত্রকোণার সম্ভাব্য নতুন রেললাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার রেললাইন স্থাপন সংক্রান্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। জনস্বার্থ ও যাত্রীসেবায় প্রকল্পটি কার্যকর প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চাই না, যাতে জনগণের অর্থ অপচয় হয়। যেকোনো দাবি বাস্তবায়নের আগে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে।’

সরকারের লক্ষ্য সারা দেশে রেলসেবার মানোন্নয়ন এবং যাত্রীসেবা আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

See More

Latest Photos