স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত: ইসির সঙ্গে আলোচনা করেই ডা. জাহেদ

Total Views : 4
Zoom In Zoom Out Read Later Print

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে—এমন আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এ নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসির সঙ্গে আলোচনা করেই ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন নিজেদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোনো তারিখ ঘোষণা করে থাকলে সেটি সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া বা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ফলে এসব নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় জরুরি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা বিরোধ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে একই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, টেলিভিশনে ইসির ঘোষিত কয়েক ধাপের ইউপি নির্বাচনের তারিখ দেখেছেন; কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো চিঠিপত্র বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি সভা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে ঘোষিত তারিখের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আগে অবহিত করা হয়নি বলে তিনি জানান।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের কথা জানানো হয়েছিল। জুনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছিলেন, বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে আয়োজনের কথা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সব নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, তা নিয়ে কমিশনের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে এবং পরে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া, বন্যা, দুর্গাপূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ভোট গ্রহণের কাজে ব্যবহারের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের বক্তব্যেও আগে-পরে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। জুলাইয়ে ডা. জাহেদ জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সময়ে তিনি বলেন, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভোট সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবার দলীয় প্রতীকে হবে না—এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে সরকার। ডা. জাহেদ এর আগে জানিয়েছিলেন, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ নেবে না; প্রার্থীরা ব্যক্তিগত পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বা প্রতীক নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক অংশ হবে না।

ডা. জাহেদ বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল নয়, ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন। কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা আছেন, সেটি নিজে কোনো নির্বাচনী পরিচয় হবে না। তবে প্রার্থীকে প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

See More

Latest Photos