প্রধানমন্ত্রী ফেনী পৌঁছেছেন

Total Views : 20
Zoom In Zoom Out Read Later Print

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাকে বহনকারী বাস ফেনী সদর হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছালে সড়কের দুই পাশে জড়ো হওয়া হাজারো নেতাকর্মী স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘প্রধানমন্ত্রী তোমাকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী জেলার সীমান্তবর্তী পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরটি তাঁর সরকারপ্রধান হিসেবে ফেনীতে প্রথম সফর। সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার সড়কের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বন্যা ও নদীভাঙনের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুনে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পটি ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, ওই বন্যায় সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ছিল।

প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বিদ্যমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নতুন রেগুলেটর নির্মাণ এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের মতো কাজ করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী অববাহিকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। কলেজ প্রাঙ্গণে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে সেখানে স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে ডাকবাংলোয় কিছু সময় বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন তিনি।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান করা হবে। এ কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকাকে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের তারিখ প্রথমে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরে সফরটি স্থগিত করে ১ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি দীর্ঘ সময় পর ফেনীতে এসেছিলেন তারেক রহমান। তবে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজকের সফরই ফেনীতে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। নানাবাড়ির জেলা ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


See More

Latest Photos