এবার পুরো ইরানকে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি চুক্তি না হলে, ট্রাম্পের

Total Views : 31
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অথবা দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়তো আপনাকে তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আপনাকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দিই, অথবা আমরা একটি চুক্তি করি—সময় কিন্তু এসে যাচ্ছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, যেকোনো একটি উপায়ে খুব শিগগিরই এই সংঘাতের সমাপ্তি হবে। একই দিনে ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকো মেরিন ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, নেতৃত্ব ও সামরিক-শিল্প সক্ষমতা মার্কিন বাহিনী ‘ধ্বংস’ করেছে। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব সামরিক দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরও দাবি করেন, গত তিন দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল পরিবহন হয়েছে। তবে আলজাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে পুনরুদ্ধার হলেও নৌযান চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং বীমা ব্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। সংঘাতের কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য তেল পরিবহন আবার বাড়তে শুরু করেছে।

এর মধ্যেই সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে তেহরানের সাত দিনের আস্থা তৈরির পরিকল্পনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে তারা। কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন জবাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে পৌঁছেছে।

ইরানের প্রস্তাবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্যগুলোর পাশাপাশি কোন পক্ষ আগে কোন পদক্ষেপ নেবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় স্বীকার করে অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে একদিকে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতা—দুই ধারাতেই এগোচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত।


See More

Latest Photos