সৌদিতে হামলায় প্রাণ গেল শাহেদ ও নাসরুল্লাহর, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ বাংলাদেশি

Total Views : 17
Zoom In Zoom Out Read Later Print

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হতাহতদের পরিচয় ও চিকিৎসার বিষয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়

নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটিতে দেশে এসে আবার কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন শাহেদ।

অন্যদিকে, নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

আহত বাংলাদেশিরা যেসব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাঁদের মধ্যে তিনজন কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

আহতদের নাম ও হাসপাতালের তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

কিং আবদুল্লাহ হাসপাতাল (আইসিইউ):

  • হাফেজ হাসান — ঢাকার কামরাঙ্গীরচর; ওমরাহযাত্রী।

  • কাজী নুরুল্লাহ — ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর; ওমরাহযাত্রী।

  • মো. ওমর ফারুক — সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী।

ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল:

  • সাফফাত রহমান — নওগাঁর রাণীনগর।

  • দাউদুল ইসলাম — কুমিল্লার নাঙ্গলকোট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাফফাত রহমান ও দাউদুল ইসলাম অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটে রিয়াদে অবস্থান করছিলেন।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল:

  • সাইদুল ইসলাম সৌরভ — ঢাকার লালবাগ।

  • আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন — ঢাকার মিরপুর।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল:

  • আব্দুল্লাহ — ঢাকার ডেমরা।

সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল, তাখাসসুসি শাখা:

  • আরমান হোসেন — ঢাকার কামরাঙ্গীরচর।

  • মোহাম্মদ।

  • ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক।

কিংডম হাসপাতাল:

  • রফিক মিয়া।

কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতাল:

  • ইসমাইল হোসাইন।

  • মিসবাহ উদ্দীন হীরক।

  • মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতাল:

  • সালমা আক্তার।

  • শাহাদাত হোসেন।

  • মোশাহিদ আহমেদ সৈকত।

  • জাহিদ আহমেদ।

  • সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।

এস্টার সনদ হাসপাতাল:

  • আসাদুল ইসলাম।

  • জামাল।

সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল:

  • নাজমা আক্তার।

সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল, আলসাহাফা শাখা:

  • উমায়ের।

  • আব্দুল্লাহ কামিল।

আহতদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।

প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা

হামলার পর বিমানবন্দর ও সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। তাঁদের সহায়তায় কাজ করছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য রিয়াদের কয়েকটি হোটেল এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া এহরাম পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।

বাতিল হওয়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে দূতাবাস। পাশাপাশি বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে স্থলপথে যাত্রায় সহায়তা করা হয়েছে।

হতাহতদের বিষয়ে যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস

বাংলাদেশ দূতাবাস আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা এবং দেশে ফেরার ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার নিন্দা জানিয়েছে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

See More

Latest Photos