তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

Total Views : 24
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে পিবিআই কার্যালয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে পিবিআইয়ের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতে দীপ তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে বের হয়েছিলেন এবং সময় কাটিয়েছিলেন। এ বিষয়ে দীপের কাছে জানতে চাওয়া হবে এবং তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

নিখোঁজের পর নদী থেকে উদ্ধার মরদেহ

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। তবে এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে নেওয়া মোটরসাইকেলটিরও এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

সিসিটিভি ফুটেজে দীপের সঙ্গে দেখা

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ধারণ করা একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাতে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাঁদের দেখা হয়। তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর দীপ বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডাকেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন জানিয়ে নিচে যান তাহসিফ। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তাঁদের পৃথক মোটরসাইকেলে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের সন্দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁর দেওয়া তথ্য ও ঘটনার অন্যান্য আলামত যাচাইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। জানাজা শেষে ওই দিনই উত্তরায় তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

See More

Latest Photos