শহীদ ওয়াসিমের মা ছেলেকে হারিয়ে ঘুমাতে পারিনি, আজ শান্তি পাচ্ছি:

Total Views : 49
Zoom In Zoom Out Read Later Print

চট্টগ্রামের জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের মা জোসনা বেগম বলেন, ছেলেকে হারানোর পর থেকে একটি দিনও আমার ভালো কাটেনি, ঘুম হয়নি। রায় শুনে অনেকটা শান্তি লাগছে। শহীদ ফয়সাল হোসেন শান্তর বাবা জাকির হোসেন বলেন, মনকে কিছুটা হলেও শান্তি দিতে পারছি রায় শুনে। সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা রায়ে সন্তুষ্ট হলেও রায় কার্যকর নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই সরকারের আমলেই তারা রায় কার্যকর দেখতে চান। এজন্য ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর চান তারা।

 পটুয়াখালীর দুমকির পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের শহীদ জসিমের বাবা সোবহান অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আল্লাহ উচিত বিচার করছে এহোন হাসিনারে দ্যাশে আইনা ফাঁসি দিলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাইবে। 

ফাঁসি কার্যকর হলে মরেও শান্তি পাব : কমলনগরের চরবড়ালিয়া এলাকার মাজহারুল ইসলাম মাসরুরের স্ত্রী সালমা বেগম শেখ হাসিনাকে দেশে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান। বাবা আব্দুল খালেক বলেন, ফাঁসি কার্যকর দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাব। 

শেখ হাসিনাকে কোটিবার ফাঁসি দিলেও পরান জুড়াবে না : মাগুরার শহীদ ছাত্রদল যুগ্ম সম্পাদক রাব্বির স্ত্রী রুমি বলেন, শেখ হাসিনাকে কোটিবার ফাঁসি দিলেও কি আমার পরাণ জুড়াবে? না, আমার বাচ্চার পরাণ জুড়াবে? আমার সামনে তাকে গুলি করে মারা হলেও তো আমার পরাণ জুড়াবে না। 

রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি শহীদ মায়ের : গাইবান্ধার সাঘাটার শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। তিনি বলেন আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। 

আর যেন কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয় : জামালপুরের শহীদ সাফওয়ান আক্তার সদ্যের বাবা ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর করলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। আর যেন কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়। রিকশাচালক শহীদ সবুজের বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, রায় ঘোষণাতেই যেন এটি সীমাবদ্ধ না থাকে। 

এই সরকারের আমলেই রায় কার্যকর চান সাংবাদিক তুরাবের ভাই : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চান শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই আবুল আজরফ আহসান জাবুর। তিনি বলেন, রায় কার্যকর না হলে তার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে না। 

এই রায় আমার সন্তানের রক্তের ন্যায্য দাবি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিটঘর দক্ষিণপাড়া গ্রামের তানজিল মাহমুদ সুজয়ের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ রায় আমার সন্তানের রক্তের ন্যায্য দাবি পূরণের প্রথম ধাপ। ছেলের খুনিদের সবাইকে আইনের কাঠগড়ায় দেখতে চাই। 

রায় ঘোষণায় কবর জিয়ারত : ফেনীর শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। শ্রাবণের বাবা নেসার আহমেদ বলেন, রায় বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারব কি না জানি না। খুনিদের দ্রুত ফাঁসি দেখতে চাই। 

ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত খুশি হতে পারছি না : স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শহীদ পরিবারের কেউ খুশি হতে পারছি না। দ্রুত হাসিনাসহ তার দোসরদের বাংলাদেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। কুমিল্লার দেবিদ্বারে শহীদ আবদুর রাজ্জাক রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। 

আমাদের কলিজার টুকরা কি আর ফিরে আসবে : সব শহীদের বাবা-মা আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন। সবই তার তরফ থেকে হইছে। এখন ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের শহীদ হাফেজ সিয়ামের বাবা গোপরেখী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এমন প্রতিক্রিয়া জানান। খুকনী ঝাউপাড়া গ্রামের শহীদ ইয়াহিয়া ও মাধবপুর মহল্লার শহীদ সিহাব হোসেনের পরিবারের দাবি দ্রুত রায় কার্যকর। 

দিানজপুরের চিরিরবন্দরে শহীদ হাফেজ মো. সুমন পাটোয়ারীর বাবা ওমর ফারুক, পটুয়াখালীর শহীদ হৃদয় তরুয়ার বাবা রতন তরুয়া, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামের শহীদ সোহাগের বাবা আবুল কালাম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শহীদ সামিদের মা স্বপ্না খাতুন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শহীদ ইশমামুল হকের মা শাহেদা বেগম। নাটোরের সিংড়ায় সাঐল হাজীপাড়া গ্রামের শহীদ রমজান আলীর বাবা নজরুল ইসলাম ও মা অজুফা বেগম, সোয়াইড় গ্রামের শহীদ সোহেল রানার ভাই আব্দুল্লাহর ও মা রেহেনা বেগম এবং ছাতারবাড়িয়া গ্রামের শহীদ রিদয় হোসেনের বাবা রাজু আহমেদ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবির শহীদ নজিবুল সরকার বিশালের বাবা আব্দুল মজিদুল সরকার, মা বুলবুলি খাতুন, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর শহীদ জামালের ভাই আলমাস ভূঁইয়া, হবিগঞ্জের শহীদ রিপন চন্দ্র শীলের বোন চম্পা রাণী শীল, ভোলার চরফ্যাশনের শহীদ স্কুলছাত্র মোহাম্মদ সিয়ামের বাবা জিয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের শহীদ আবুল হাসান স্বজনের বাবা জাকির হোসেন, রাজবাড়ীর গণি শেখের স্ত্রী লাকি বেগম, বরিশালের বাবুগঞ্জের মহিষাদী এলাকার শহীদ ফয়সাল আহাম্মেদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন, দেহেরগতী ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল্লাহর আল আবিরের বাবা মিজানুর রহমান এবং রহমতপুর ইউনিয়নের মানিকাঠী গ্রামের শহীদ রাকিব হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন, বগুড়ার শহীদ স্কুলছাত্র জুনাইদ ইসলাম রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান জিয়া, ধোবাউড়ার গামারীতলা গ্রামের শহীদ মাজেদুল ইসলামের ভাই জালাল উদ্দিন শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে এনে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।

See More

Latest Photos